স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আইনজীবী কামাল হোসেন চৌধুরী।

তাঁর নাম-পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি এবং মিথ্যা, আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও অপপ্রচার বন্ধ না হওয়ায় এবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

গত ২ নভেম্বর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাইবার পিটিশন মামলা নং ৬১২/২৬ (কোতোয়ালি) দায়ের করেন অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী। মামলায় কয়েকটি ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মানহানি ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টা ৪৯ মিনিট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে বাদীকে নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব পোস্টের মাধ্যমে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

http://নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশের পর অপপ্রচার, সাইবার ট্রাইব্যুনালে অ্যাড. কামাল

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর নাম ও ছবি সংযুক্ত করে ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে জঘন্য, আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশের পর থেকেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। এসব ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে এর আগে কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তিনি।

এর আগে ৩১ অক্টোবর রাতে কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা জিডিতে কামাল হোসেন চৌধুরী উল্লেখ করেন, আদালত ভবন এলাকায় অবস্থানকালে ফেসবুক ব্রাউজ করার সময় তাঁর নজরে আসে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া আইডি পরিচালনা করছেন।

জিডিতে ‘জীবন চৌধুরী’ ও ‘কামাল চৌধুরী’সহ বিভিন্ন নামে খোলা আইডির কথা উল্লেখ করা হয়। এসব আইডিতে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ব্যবহার করে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এই আইনজীবী।

ভুয়া আইডিগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন চৌধুরী।