জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর ও কাগজবিহীন করার উদ্যোগে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাইবার নিরাপত্তা। আগের সরকারের সময়ে এ খাতে দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যাওয়ায় নতুন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে। ই-পার্লামেন্টের তথ্য-উপাত্ত সুরক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ বিষয়ে সংসদে প্রস্তাব তুলে অনুমোদন নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের সময়ে সাইবার নিরাপত্তার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় হালনাগাদও করেনি। ফলে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ খাতে যেসব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাদের বিষয়ে সংসদে প্রস্তাব উপস্থাপন করে অনুমোদন নেওয়া হবে।
এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় ই-পার্লামেন্টের তথ্য ও উপাত্তের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইবার হামলায় সরকারি ওয়েবসাইট, পোর্টাল ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরির ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউএনডিপি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে পুনরাবৃত্তি বা দ্বৈততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় সংসদীয় কার্যক্রমকে আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কাগজনির্ভর কার্যক্রমের পরিবর্তে কাগজবিহীন সংসদ গড়ে তোলা, সংসদের অধিবেশন, বিল ও আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোটের রেকর্ড অনলাইনে সংরক্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিকেরা অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে আইনের খসড়ায় মতামত দিতে পারবেন এবং ই-পিটিশন দাখিল করতে পারবেন। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও নিজেদের অভিযোগ সরাসরি সংসদে জানানোর সুযোগ পাবেন বলে সভায় জানানো হয়।
তবে প্রকল্পটির জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। উদ্যোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছেন।
লেআউট সিলেক্ট করুন
ফন্ট ও ছবি লোড হচ্ছে...
ই-পার্লামেন্টের নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ— প্রস্তুতির কথা জানালেন হুমাম কাদের

