একসময় এই বিদ্যালয়ের আঙিনায় কেটেছে দুরন্ত শৈশব, শ্রেণিকক্ষে বসে গড়ে উঠেছে স্বপ্নের বীজ। সময়ের স্রোতে তাঁরা আজ কেউ দেশে, কেউ বিদেশে- জীবনের নানা ব্যস্ততায় ছড়িয়ে পড়েছেন ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায়। কিন্তু যে বিদ্যালয় তাঁদের মানুষ হওয়ার পথে আলো দেখিয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতা ভুলে যাননি রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
পুরোনো স্মৃতির টানে এবার তাঁরা ফিরেছেন নতুন প্রজন্মের পাশে দাঁড়াতে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করেছেন একটি সুপেয় পানির প্ল্যান্ট।
শুধু পুনর্মিলনীর আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু করার প্রত্যয় থেকেই তাঁদের এই উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সুপেয় পানি পান করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে প্ল্যান্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক আব্বাস হোসাইন, ১৯৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’
একটি পানির প্ল্যান্ট হয়তো দেখতে খুব বড় কোনো আয়োজন নয়। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্মৃতি, ভালোবাসা আর পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধ। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে উপকারী এক সংযোজন। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু ছাত্রজীবন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; সেই সম্পর্কের টান থেকেই যায় বহু বছর পরও।
এদিকে, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের পাশাপাশি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৯৯৭ ব্যাচের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পুরোনো সহপাঠীদের মিলনমেলায় স্মৃতিচারণ, আনন্দ আর বন্ধুত্বের বন্ধনে মুখর হয়ে উঠবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ- এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।
প্রিয় স্কুলের স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে ৯৭ ব্যাচের এই উদ্যোগ যেন এক নীরব বার্তা দেয়- যে প্রতিষ্ঠান একদিন স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সবচেয়ে সুন্দর উপায় হলো পরবর্তী প্রজন্মের পথচলাকে আরও সহজ করে দেওয়া।
লেআউট সিলেক্ট করুন
স্মৃতির টানে নতুন প্রজন্মের পাশে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, উপহার দিলেন পানির প্ল্যান্ট

