রাজনীতিতে ব্যক্তিবিশেষকে খুশি করার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কাউকে খুশি করার জন্য কাজ করার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, তা কখনোই কাম্য নয়। এই সংস্কৃতি পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জনপ্রিয় বিনোদনধর্মী পডকাস্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর চ্যানেল ‘সামির স্ক্যান’-এ প্রকাশিত এক পডকাস্টে এসব কথা বলেন হুমাম কাদের।

পডকাস্টে ব্যক্তিকে খুশি করার প্রবণতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের একটা বড় সমস্যা, একটা ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য সবাই লাফ দিয়ে উঠে যাই। আমি যদি এটা করি, তাহলে সামির ভাই তো খুব খুশি হবে। আমি তাহলে এটা করে ফেলি। এটা এমন যে, কে কী করে কাকে খুশি করতে পারে। এই কালচার কখনো যাবে না।’

দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর মতে, দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বেশি এবং অনেক চ্যানেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

হুমাম কাদের বলেন, ‘কালচার চেঞ্জ করতে চাও? বাংলাদেশের মধ্যে যতগুলো টেলিভিশন আছে, এই ঝুড়িতে ঝুড়িতে টেলিভিশন চ্যানেল না, আধা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ, ম্যাক্সিমাম চ্যানেলের মধ্যে যাদের কাভারেজ দেওয়া হয়, এদের টিভি দেখাও উচিত না, টিভিতে আসা তো দূরের কথা।’

টেলিভিশনের টকশোগুলোর আলোচনার ধরন নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে হুমাম কাদের বলেন, ‘আমি তো দেখি, প্রত্যেক দিন টকশোর মধ্যে কী প্যাঁচাল পারে আর কাকে কাকে আনে! ভাই, আস্তাগফিরুল্লাহ! তওবা করা উচিত।’

এ সময় বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন হুমাম কাদের। দলের পরিসর বড় হলে নতুন কিছু মানুষ যুক্ত হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের আবার পার্টি বড় হলে যা হয়, কিছু অ্যাডপ্টেড চিলড্রেনও চলে আসছে। অ্যাডপ্টেড চিলড্রেনদের একটু লাইনে আনা দরকার আছে।’

দলে যুক্ত হওয়া কিছু মানুষের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সুযোগ পাই না বলে যে আমি এখন বিএনপি! ভাই, জুমা থেকে জুমা— সাত দিনও হয়নি এখনো।’

হুমাম কাদেরের বক্তব্যে রাজনীতিতে ব্যক্তিতোষণের প্রবণতা, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।