চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে আহত করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুসার বাপের টিলা এলাকার জামির আলী তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওমানফেরত প্রবাসী ও বিএনপি কর্মী মো. গোলাপ (৪৫), তাঁর ছেলে মীরেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আছিফ (১৮), গোলাপের বড় ভাই মোহাম্মদ সৈয়দ (৫৫), গোলাপের তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান মোহাম্মদ এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু রাকিব। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
আহতদের স্বজন ও আবুধাবির মুছাফফা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজের দাবি, এলাকার ১০টি পরিবারের মধ্যে পাঁচটি পরিবারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা, ১৫টি মোবাইল ফোন, দুই জোড়া স্বর্ণের দুলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনের মুখ বাঁধা থাকলেও অন্যদের মুখ খোলা ছিল। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ফিরোজের অভিযোগ, হামলাকারীরা সরফভাটার একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী দলের সদস্য। তাঁকেও অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গুলি গোলাপের হাতে, ছেলের কব্জিতে গুরুতর আঘাত
আহত গোলাপের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, হামলায় তাঁর স্বামীর ডান হাতে গুলি লাগে। বাম হাতে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপানো হয়। ছেলে আছিফের বাম হাতের কব্জিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর ক্ষত হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, ছেলের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গোলাপের বড় ভাই মোহাম্মদ সৈয়দকে বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ছাড়া তাঁর বুকে, হাতে ও মাথায় আঘাত লাগে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের অবস্থা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন।
হালিমার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় তিন বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদের মুখে আঘাত লেগে দাঁত পড়ে গেছে। পাঁচ বছর বয়সী রাকিবকেও লাথি মেরে আহত করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুলিশের
ঘটনার পর রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।
এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁরা চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় থানায় আসতে পারেননি। তবে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরফভাটায় আতঙ্ক, সাঁড়াশি অভিযানের দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরফভাটায় একের পর এক খুন, হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে মীরেরখীলসহ আশপাশের গ্রামের শত শত পরিবার এলাকাছাড়া হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা মামলা করতে সাহস না পাওয়ায় চিহ্নিত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে সরফভাটার স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জঙ্গল সলিমপুরের মতো সরফভাটায় সন্ত্রাসবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
লেআউট সিলেক্ট করুন
চাঁদা না পেয়ে সরফভাটায় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, রক্তাক্ত প্রবাসী পরিবারের ৫ জন

